আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোর সদস্যপদ পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই ইউক্রেনের। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। ইউক্রেনকে নেটোর সদস্য করতে আমেরিকা আপত্তি জানাতেই এ বার ইউরোপের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। একটি ইউরোপীয় সামরিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জ়েলেনস্কির সরকার নেটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন জানাতে সক্রিয় হওয়ার পরেই ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কিভের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল মস্কো। যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে রাশিয়ার প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনের নেটোর সদস্যপদ পাওয়ার আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় অস্ত্রসাহায্য চালিয়ে গিয়েছে আমেরিকা। তবে সদস্যপদ দেওয়া হয়নি। তাতে কিছুটা অসন্তোষ দেখা গিয়েছে জ়েলেনস্কি প্রশাসনেও। জ়েলেনস্কি জানিয়েছিলেন, রাশিয়া হামলা বন্ধ করলে তাঁরা আর নেটোর সদস্যপদের জন্য তৎপর হবেন না।
তবে ইউক্রনেকে নেটোর সদস্যপদ দেওয়া নিয়ে আমেরিকা আপত্তি জানাতেই ‘বিকল্পের খোঁজ’ শুরু করে দিলেন জ়েলেনস্কি। তাঁর মতে, রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে কোনও আলোচনায় আসতে প্রস্তুতই নয়। এমন অবস্থায় ইউরোপীয় একটি সামরিক বাহিনী তৈরির আরও বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। জার্মানিতে মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে বক্তৃতার সময়ে এ কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে এমন কোনও সামরিক বাহিনী তৈরি হলে আমেরিকা আপত্তি জানাতে পারে বলেও সংশয় রয়েছে জ়েলেনস্কির মনে। তাঁর কথায়, “আমেরিকার জন্য উদ্বেগের হতে পারে ভেবে ইউরোপের এমন পদক্ষেপে আপত্তি থাকতে পারে আমেরিকার।”