রামনবমীতে (Ramnavami) অস্ত্র নিয়েই শোভাযাত্রা করা হবে জানিয়েছিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তার পাল্টা কলকাতায় রামনবমীর শোভাযাত্রায় অস্ত্র নিয়ে যোগ দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। রামনবমীর শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়া কোনও সদস্যের হাতে অস্ত্র দেখা গেলে, উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। খবর প্রকাশ্যে আসতেই এখন সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য–রাজনীতি।
লালবাজার সূত্রে খবর, কলকাতা পুলিশ এই নিয়ে বৈঠক করেছে। সব থানার ওসিকে পুলিশ কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন। কলকাতা শহরে ডিজে বহু আগে থেকেই নিষিদ্ধ তাই রামনবমীর শোভাযাত্রায় ডিজে যেন বাজানো না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। শোভাযাত্রায় বের করা যাবে না মোটরবাইক মিছিল। গায়ের জোর দেখিয়ে মোটরবাইক মিছিল করার চেষ্টা করলে সব বাজেয়াপ্ত করা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে হবে। ইতিমধ্যেই রামনবমীর মিছিল নিয়ে উদ্যোক্তাদের নির্দিষ্ট থানায় ডেকে কলকাতা হাইকোর্টের গাইডলাইন হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগে এই রাজ্যের নানা জায়গায় রামনবমীর শোভাযাত্রায় শিশুদের হাতে অস্ত্র ধরিয়ে দেওয়া হতো। ২০১৪ সালের পর থেকে দেখা যায়, রামনবমীতে সাবালকরা অস্ত্র হাতে বেরোচ্ছে। সেই নিয়ে অশান্তি শুরু হয়। এমনকী একবার গুলি পর্যন্ত চলেছে রামনবমীর মিছিল থেকে। রামনবমী উপলক্ষ্যে রাজ্যে উত্তেজনা প্রতি বছর বেড়েই চলেছে। রাজ্যের এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম নির্দেশিকা দিয়ে জানিয়েছেন, হাওড়া গ্রামীণ এবং হাওড়া কমিশনারেট এলাকায় ২ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সমস্ত পুলিশ কর্মীদের ছুটি বাতিল। মঙ্গলবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা শহরের নানা স্পর্শকাতর এলাকায় রামনবমীর সম্ভাব্য শোভাযাত্রা হওয়ার পথ ঘুরে দেখেন। মনোজ ভার্মা জানান, ‘আগে কলকাতায় রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে কোথায় কী কারণে গোলমাল হয়েছে সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি। রামনবমী উপলক্ষ্যে রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স থাকবে। অস্ত্র হাতে মিছিল বরদাস্ত করা হবে না। কারণ শহরে আমরা শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।’