সময়ের সাথে ফুলের শহর পাঁশকুড়া (Panskura) ততই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পর্যটকদের কাছে। ফুলের রপ্তানি ছাড়াও ফুলের বাগান ঘুরে দেখতে বহু দূর-দূরান্ত থেকে পাঁশকুড়ায় আসছেন পর্যটকরা। এমন পরিস্থিতিতে বেহাল রাস্তার জন্য সমস্যায় পড়তে হত পর্যটক থেকে স্থানীয়দের। এবার প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে সেই রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত লাগিয়েছে পাঁশকুড়া পুরসভা। পাঁশকুড়ার পিডব্লুডি মাঠ থেকে চাঁপাডালি মোড় পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেছে পাঁশকুড়া পুরসভা। মাঝখানেক আগেই এই রাস্তা তৈরীর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে বন্যা কবলিত জন্দড়া এলাকায় কংক্রিটের নদী বাঁধ তৈরির কাজ চলছে। এই বাঁধ তৈরি হয়ে গেলেই আগামী কয়েক দিনে সম্পন্ন হয়ে যাবে রাস্তার কাজ। এই রাস্তার পাশেই অবস্থিত পাঁশকুড়া গার্লস হাই স্কুল, চাঁপাডালি হাইস্কুলের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও ভবানীপুর, তিলন্দপুর, চাঁপাডালী সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষজনের যাতায়াত ওই রাস্তা ধরে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা বেহাল হয়ে থাকায় ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন সকলেই। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগ নেয় পুরসভা। ওই রাস্তা দিয়েই ফুলের গ্রাম দোকান্ডায় আসেন পর্যটকরা। এই রাস্তা পাঁশকুড়া পুর এলাকার ১৮নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত। বছর দশেক আগে এই রাস্তার শেষ সংস্কার হয়। এরপর রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। পর্যটকরা ওই রাস্তায় গাড়ি নিয়ে গেলেই ধুলোয় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। ফলে ফুল চাষীরাও ফুলকে ধুলোর হাত থেকে বাঁচাতে সমস্যায় পড়েন। তাই পাঁশকুড়া পুরসভার তরফ থেকে এই রাস্তাকে পুনরায় সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাস্তার সংস্কারের জন্য ২ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০২৪ সালে বন্যার সময় জন্দড়া এলাকা বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। তাই ওই এলাকায় পাকাপোক্ত নদী বাঁধ নির্মাণ করে এই রাস্তা তৈরীর কাজ করা হবে পুরসভার তরফ থেকে।
পাঁশকুড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন নন্দকুমার মিশ্র এই বিষয়ে জানিয়েছেন, “স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের ওই রাস্তা সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের ছিল। আমরা ইতিমধ্যে ২ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ওই রাস্তা তৈরীর কাজ শুরু করেছি। রাস্তার পাশে বেশ কিছু স্কুল ও ফুলের গ্রাম রয়েছে। ভগ্ন প্রায় রাস্তা থাকায় তারাও সমস্যায় পড়েছিলেন। তাই রাস্তা সংস্কার হলে সকলেরই সুবিধা হবে। পর্যটকদেরও আরো বেশি আগমন ঘটবে।”