যোগীরাজ্যে (UttarPradesh) নারী নিরাপত্তা যে নেই সেটা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রতিনিয়ত নারী নির্যাতন বা অপমান, অসম্মান প্রকাশ্যে উঠে আসছে। এবার শিক্ষা ক্ষেত্রেই দেখা গেল চরম হেনস্থার শিকার নারীরা। লোকলজ্জার ভয়ে মুখ বন্ধ থাকতো সবার। একজন সাহস দেখাতেই হয়ে গেল পর্দাফাঁস। কলেজের অধ্য়াপকের মুখোশ খুলে গেল। প্রমান প্রকাশ্যে আসতেই ছাত্রীদের যৌন হেনস্থার অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে অভিযুক্ত প্রফেসরকে। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর-ও দায়ের করা হয়েছে।
হাথরসের শেঠ ফুলচন্দ পিজি কলেজে ভূগোল বিভাগের প্রধান অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন এক ছাত্রী। অভিযোগকারীণী সেই কলেজ ছাত্রী। পুলিশ ও মহিলা কমিশনের কাছে তিনি প্রমাণ সহ চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে অধ্যাপকের কীর্তি ফাঁস করা হয়েছে।
পুলিশ এর তরফে খবর, ভারতীয় ন্যয় সংহিতার ৬৪(২) (ধর্ষণ), ৬৮ (পদমর্যাদা ব্যবহার করে শারীরিক সম্পর্ক), ৭৫ (যৌন হেনস্থা)-এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীণীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
চিঠিতে অভিযোগকারীণী জানান অভিযুক্ত অধ্যাপক নানা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে কলেজ ছাত্রীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিয়ো রেকর্ড করে রেখে বার বার হেনস্থা করতেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। চিঠিতে অভিযোগকারীণী লিখেছেন, “সরকার বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও বলে। এরপরও কিছু লোক মেয়েদের সঙ্গে অপরাধ, অত্যাচার করে চলেছে। এই অসভ্য লোকটির জন্য আমি এতটাই বিরক্ত যে মাঝেমধ্যে আত্মহত্যার কথা ভাবি। প্লিজ ছাত্রীদের বাঁচান…লোকলজ্জার ভয়ে কেউ কিছু বলবে না। দয়া করে ওই রাক্ষসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করুন এবং আমার মতো বহু মেয়ের বিচার করুন”।
এখানেই শেষ নয়, চিঠির সঙ্গে অভিযোগকারীণী বেশ কিছু ছবিও পাঠিয়েছেন, যেখানে অধ্যাপককে অশ্লীল কাজ করতে দেখা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল ছাত্রীদের সঙ্গে অধ্যাপকের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের সেই ছবি।