দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত যেতে প্রতিদিন ট্রেনের (Train) যাত্রী সংখ্য়া লক্ষাধিক। দূরপাল্লার ট্রেনের ক্ষেত্রে শুয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। তিনটি বার্থ থাকে। নিচেরটিকে বলা হয় লোয়ার বার্থ। এছাড়া থাকে মাঝে মিডল বার্থ ও উপরে আপার বার্থ। যাত্রীদের পছন্দ অনুযায়ী সবসময় সিট পড়ে তা নয়, তবে লোয়ার বার্থে কারা যাত্রা করতে পারবেন, সেটা এবার নির্ধারণ করে দিচ্ছে রেল।
মহিলা, বয়স্ক নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী যাত্রীরা সবসময় লোয়ার বার্থে যাত্রা করতে চান। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই বিষয়ে জানান বিশেষ কিছু যাত্রীকে লোয়ার বার্থের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে মহিলা, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী যাত্রীদের লোয়ার বার্থের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সবার পক্ষে ওই আসন পাওয়া সম্ভব নয়।
রেলমন্ত্রী বলেন, “ট্রেনে লোয়ার বার্থের সংখ্যা সীমিত, তাই সবাইকে এই বার্থগুলি দেওয়া কঠিন। কিন্তু রেলওয়ে নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে যে, যে সব যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের জন্য এই আসনগুলি বরাদ্দ থাকবে। লোয়ার বার্থের ক্ষেত্রে রেলের প্রথম অগ্রাধিকার পাবে মহিলা, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা।”
প্রসঙ্গত, প্রতিটি রেলওয়ে ট্রেনের কোচে নির্দিষ্ট সংখ্যক লোয়ার বার্থ থাকে। স্লিপার কোচে ৬ থেকে ৭টি এমন বার্থ থাকে। থার্ড এসির প্রতিটি কোচে ৪ থেকে ৫টি করে লোয়ার বার্থ থাকে, যেখানে সেকেন্ড এসির প্রতিটি কোচে ৩ থেকে ৪টি করে এমন বার্থ থাকে। ভারতীয় রেল প্রতিবন্ধী যাত্রীদের অগ্রাধিকার দেয়, যাতে তাদের ট্রেনে যাত্রা করতে তাদের কোনও সমস্যা না হয়। তাদের জন্য স্লিপার কোচে ২টি লোয়ার বার্থ সংরক্ষিত থাকে। থার্ড এসি এবং থার্ড ইকোনমিতে ৪টি লোয়ার বার্থ এবং সেকেন্ড সিটিং বা চেয়ার কারে ৪টি সিট এই ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত। এরপর যদি ভ্রমণের সময় নীচের বার্থ খালি থাকে, তাহলে মিডল বা আপার বার্থে থাকা বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী মহিলাদের ওই আসনের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এতকিছুর পরেও সঠিক বার্থ পাচ্ছে না বহু মানুষ। হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে বহু যাত্রীকে। পরিবারের মহিলা ও বয়স্ক যাত্রী নিয়ে যাত্রা করতে হলেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে। এর সমাধান কবে কিভাবে সেই নিয়ে কোন নিশ্চয়তা আদৌ আছে কিনা সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।